যখন আপনি কোন কোম্পানী অথবা কোন ব্যাক্তিকে আপনার রিজিউমি পাঠান আপনার প্রথম ইম্প্রেশন তৈরী হয় সেখান থেকেই। আপনি যদি কোন জব বা চাকুরী সন্ধানকারী হোন তাহলে আপনাকে পরবর্তীতে ইন্টারভিউ বা সাক্ষাৎকারের জন্য ডাকা হবে কি না সেটি নির্ধারণ হয়ে থাকে আপনার রিজিউমি দেখেই।
এটি খুবই স্বাভাবিক যে, যখন কোন কোম্পানি কোন জব পোস্ট করে। সেই জব পোস্টে কয়েকশত থেকে হাজারেরও বেশি মানুষ আবেদন করে থাকেন। প্রত্যেক কে সাক্ষাৎকারের জন্য ডাকা কোনভাবেই সম্ভব না। সেক্ষেত্রে নিয়োগকারী রিজিউমি গুলো থেকে সেই রি্জিউমি গুলোকেই শর্ট লিস্টেড করে থাকে, যেগুলো তাদের জব পোস্টের সাথে যথেষ্ট সামঞ্জস্যপূর্ণ। একটি পরিষ্কার, বিস্তারিত, এবং সহজ জীবনবৃত্তান্ত বা রিজিউমি নিয়োগকারীর সময়কে নষ্ট করে না এবং নিয়োগকারী তা খুব দ্রুত শর্টলিস্টেড/বাছাই করে ফেলতে পারেন।
সংক্ষিপ্ত এবং সহজ আকারে আপনার সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো দেওয়ার চেষ্টা করুন। যেমন আপনি কে এবং আপনি ঠিক কী করতে পারেন। মোঠকথা আপনার অভিজ্ঞতা, দক্ষতা, আপনি কি ভূমিকা পালন করতে পারেন সেগুলো একটু ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করুন। এই ধরণের জিনিস থাকা যেকোন নিয়োগকারীর নিকট একটা পজেটিভ ইম্পেক্ট তৈরী করে।
আপনার এচিভমেন্ট গুলো তুলে ধরুন তা অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং তা থেকে নিয়োগকারী বলতে পারেন আপনি কতটা জ্ঞানী এবং স্মার্ট। তাই সম্ভব হলে সংখ্যা, পরিসংখ্যান এবং শতাংশ সহ সেই প্রতিটি জিনিসকে অন্তর্ভুক্ত করতে কখনই লজ্জা বোধ করবেন না। সেগুলো আপনাকে সবার থেকে অনেকাংশে আলাদা করতে সাহায্য করবে।
বর্তমানে বেশিরভাগ কোম্পানিই নিজের কোম্পানির ইমেজ সম্পর্কে যথেষ্ট সচেতন। সেক্ষেত্রে যখন কোন নিয়োগকারী কাউকে নিয়োগের কাজ করছেন, তিনি অবশ্যই চেষ্টা করবেন প্রার্থীর সামাজিক জীবনকে একটু ভালোভাবে দেখার। কারণ সেখানে তাদের কোম্পানির একটা ইমেজের বা সম্মানের ব্যাপার জড়িত থাকে।
সুতরাং,আপনি যদি একজন অন্তর্মুখী বা ইন্ট্রোভার্ট হন এবং সচরাচর কোন পোস্ট না করেন, তবুও সর্বদা আপনার সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট লিঙ্কটি জীবনবৃত্তান্তে বা রিজুমিতে ড্রপ করতে ভুলবেন না।
আপনি যখন কোন নিদৃষ্ট পোস্টের জন্য আবেদন করছেন। আপনাকে অবশ্যই সেই সম্পর্কিত যে দক্ষতা গুলো আছে সেগুলো থাকতে হবে। সেই সাথে এই দক্ষতা গুলোকে কাজে লাগিয়ে আপনি যে কোম্পানিতে হায়ার হবেন তাদের জন্য যে আপনি বেস্ট ক্যান্ডিডেট সেটি প্রমাণ করা লাগবে। কেননা কোন কোম্পানী আপনার দক্ষতাগুলো পরখ না করে আপনাকে নিয়োগ করবে না।
তাই আপনাকে আপনার রিজুমেতে অবশ্যই নিজের দক্ষতাগুলো যুক্ত করতে হবে। যদি আপনি পয়েন্ট আকারে স্কিল গুলা সাজাতে পারেন তাহলে আরো ভাল হয়। কোন স্কিলটা আপনি কতটা পারেন তা উল্লেখ করে দিতে পারেন এবং জব ডেস্ক্রিপশনের রিলেভেন্ট স্কিল গুলা আগে দিতে পারেন।
সেই সাথে আপনার দক্ষতাগুলো কাজে লাগিয়ে যে প্রজেক্টগুলো করেছেন তা যুক্ত করতে হবে। মনে রাখবেন প্রতিটি প্রজেক্টের সাথে অল্প করে প্রজেক্টের উদ্দেশ্য বুঝানোর জন্য বুলেট পয়েন্ট যুক্তকরার চেষ্টা করবেন। এবং সেই সাথে এই প্রজেক্ট গুলা আপনার স্কিলকে কীভাবে প্রেজেন্ট করছে তা উল্লেখ করা লাগবে, যেগুলা আপনার স্কিলকে প্রমানিত করবেন। মনে রাখবেন স্কিল প্রমান করার বা আপনার স্কিল জাজমেন্ট করার সবচেয়ে বড় মাধ্যাম আপনার প্রজেক্ট
টিম ওয়ার্ক যেকোন চাকরির জন্য খুবই ইম্পর্ট্যান্ট। সেই ক্ষেত্রে আপনার কোন এক্সট্রা কারিকুলার এক্টিভেটিস থেকে থাকে যেমন কোন ভলিয়ান্টিয়ার অর্গানাইজেশন, কোন সংগঠনের কাজ করার অভিজ্ঞতা, কোন কোর্স কমপ্লিট করা কিংবা কোন কোম্পিটেশনে অংশগ্রহন করা ইত্যাদি।
মানুষ ভুল করবে সেটাই স্বাভাবিক। যেহেতু আমাদের হাত আমাদের মস্তিষ্কের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় তাই বানান ভুল হতেই পারে। নিজের রিজুমি সাবমিট করার পূর্বে বা ফাইনালাইজড করে ফেলার পূর্বে আমাদের একটা কাজ করতে হবে। তা হলো প্রুফ রিডিং নিজের রিজুমির বানান ঠিক আছে কি না, ফ্রন্ট সাইজ ঠিক আছে কি না এরকম আরো যে ছোট খাটো বিষয় গুলো থাকে তা একবার দেখে নিন।
আপনার রিজুমিতে যদি ভুল থাকে এবং তা যদি নিয়োগকারীর হাতে ধরা পরে তাহলে, তারা আপনাকে বেপরোয়া ভাবতে পারেন অথবা আপনাকে অসচেতন ভাবতে পারেন। আপনার রিজুমেকে প্রথমেই তারা প্রত্যাখান বা রিজেক্ট করে দিবেন। সুতরাং নিজের রিজুমিটা একটু প্রুফ রিড করে নিবেন।
সর্বোপরি, একজন নিয়োগকারীর নিকট আপনার নিখুঁত ইমেজ তৈরি করতে হলে আপনার জীবনবৃত্তান্ত বা রিজিউমি নিয়োগকারীকে পরিষ্কার এবং সহজে পড়তে হবে।
তাই নিজের জীবনবৃত্তান্তে/রিজুমিতে শুধুমাত্র সবচেয়ে প্রাসঙ্গিক তথ্যগুলো রাখার চেষ্টা করতে হবে এবং সহজে পড়ার উপযোগী হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।
0 Comments