দুই দশকের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশি টেলিভিশন নাটকে ছিলেন অভিনেত্রী হোমায়রা হিমু। তবে কয়েক বছর ধরে অভিনয়ে খুব একটা নিয়মিত ছিলেন না। এ নিয়ে তাঁর মধ্যে একরকম অভিমানও কাজ করেছিল। বিভিন্ন সময় সংবাদমাধ্যমকে বলেছিলেন, ভিউ না থাকার কারণে তাঁকে সেভাবে অভিনয়ে সুযোগ দিতেন না পরিচালক ও প্রযোজকেরা।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় হঠাৎ তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ে। প্রথম আলোকে হোমায়রা হিমুর মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন অভিনয়শিল্পী উর্মিলা শ্রাবন্তী কর ও অভিনয় শিল্পী সংঘের সভাপতি আহসান হাবীব নাসিম।
হোমায়রা হিমুর মরদেহ এখন উত্তরার বাংলাদেশ মেডিকেল হাসপাতালে রাখা হয়েছে। তাঁর মৃত্যু নিয়ে তৈরি হয়েছে রহস্য। কেউ বলছেন আত্মহত্যা, কেউ বলছেন হত্যা। কিন্তু এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
আত্মহত্যা নাকি হত্যা?
হোমায়রা হিমুর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই বিভিন্ন মহলে আত্মহত্যা নাকি হত্যা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। কেউ কেউ বলছেন, অভিনয়ে নিয়মিত না হওয়ায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন তিনি। তাই আত্মহত্যা করতে পারেন। আবার কেউ কেউ বলছেন, তাঁর মৃত্যুর পিছনে অন্য কোনো কারণ থাকতে পারে। এমনকি তাঁকে হত্যাও করা হতে পারে।
হোমায়রা হিমুর জীবন ও কর্ম
হোমায়রা হিমু ১৯৮৫ সালের ২৩ নভেম্বর লক্ষ্মীপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। লক্ষ্মীপুরে ছোটবেলা কেটেছে তাঁর। ক্লাস টুতে পড়ার সময় থেকেই কাজ করতেন মঞ্চে। ১৯৯৯ সালে এসএসসি পরীক্ষার পর ঢাকায় আসেন। প্রথমে ভর্তি হন নাগরিক নাট্যাঙ্গনে। এরপর কাজ করেন আরও কয়েকটি নাটকের দলে।
২০০৫ সালে বিনোদন দুনিয়ায় কাজ শুরু করেন হুমায়রা হিমু। এই সময়ে তাঁর আসল নাম হুমায়রা নুসরাত হিমু থেকে হোমায়রা হিমু হয়। তাঁর এই নাম বদলের পেছনে রয়েছে অভিনেতা টনি ডায়েসের ভূমিকা।
টিভি নাটকে অভিনয় শুরুর পর নোয়াখালীর আঞ্চলিক ভাষায় তাঁর অভিনয় দর্শকের মধ্যে সাড়া ফেলে। ‘সোনাঘাট’, ‘চেয়ারম্যান বাড়ি’, ‘বাটিঘর’, ‘শোনে না সে শোনে না’, ‘কমেডি-৪২০’, ‘চাপাবাজ’, ‘অ্যাকশান গোয়েন্দা’, ‘ছায়াবিবি’, ‘এক কাপ চা’, ‘এ কেমন প্রতিদান’, ‘হুলো বিড়াল’, ‘ছন্নছাড়া ৪২০’, ‘অ্যাম্বুলেন্স ডাক্তার’, ‘পাগলা প্রেমিক’ ইত্যাদি নাটকে দেখা গেছে তাঁকে।
২০১১ সালে মুক্তি পাওয়া ‘আমার বন্ধু রাশেদ’ দিয়ে চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় হিমুর। সিনেমাটিতে তরু আপা চরিত্রে দেখা যায় তাঁকে।
হোমায়রা হিমুর মৃত্যুতে শোক
হোমায়রা হিমুর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন তার সহকর্মী ও ভক্তরা। অভিনেত্রী উর্মিলা শ্রাবন্তী কর বলেন, “হোমায়রা ছিল খুব ভালো একজন মানুষ। অভিনয়ের প্রতি তার ভালোবাসা ছিল অসীম। তার মৃত্যুতে আমি খুবই দুঃখিত।”
অভিনেত্রী তানজিন তিশা বলেন, “হোমায়রা ছিল খুব প্রাণবন্ত একজন মানুষ। তার মৃত্যু আমাদের জন্য এক বড় ধাক্কা। তার আত্মার শান্তি কামনা করি।”
হোমায়রা হিমুর মৃত্যুর রহস্য উদঘাটন হোক
হোমায়রা হিমুর মৃত্যুর রহস্য উদঘাটন হোক এবং তার পরিবারকে ন্যায়বিচারের আশায় সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানায়
0 Comments