Header Ads Widget

Responsive Advertisement

সিলেটে ছাত্রলীগ কর্মী খুন, ওয়ার্ড কাউন্সিলরের নেতৃত্বে হামলার অভিযোগ

সিলেট নগরের বালুচর এলাকায় ছাত্রলীগ কর্মী আরিফ আহমদকে (১৯) কুপিয়ে ও ছুরিকাঘাত করে খুন করা হয়েছে। গতকাল সোমবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে নগরের বালুচর টিবিগেট এলাকা দিয়ে যাওয়ার পথে কয়েক যুবক আরিফকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান। তাঁকে উদ্ধার করে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত একটার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।

হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ওয়ার্ড কাউন্সিলর হিরণ মাহমুদ ওরফে নিপুর নেতৃত্বে হামলার অভিযোগ উঠেছে। হিরণ মাহমুদ সিলেট সিটি করপোরেশনের ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এবং জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি। আরিফ পদে না থাকলেও জেলা ছাত্রলীগের বর্তমান সভাপতি নাজমুল ইসলামের সঙ্গে রাজনীতি করতেন। তিনিও এ হত্যাকাণ্ডে হিরণ মাহমুদ নিপু জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন।

নিহত আরিফ আহমেদের বাবা ফটিক মিয়া জানান, তাঁর ছেলে ছাত্রলীগের রাজনীতি করত। কয়েক দিন আগেও আরিফের ওপর হামলা চালানো হয়েছিল। চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফেরার পর সোমবার তিনি সিলেটের শাহপরান থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন। লিখিত অভিযোগ দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁর ছেলেকে খুন করা হয়েছে।

সিলেটের শাহপরান থানায় ছাত্রলীগ কর্মী আরিফ আহমেদকে মারধরের ঘটনায় মামলা হয়েছে। আরিফের মা আখি বেগম গতকাল সোমবার রাতে মামলাটি দায়ের করেন।

মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, ১৫ নভেম্বর রাত ৯টার দিকে উত্তর বালুচর এলাকার ২ নম্বর মসজিদের সামনে আরিফের ওপর হামলা চালানো হয়। হামলার ঘটনায় আরিফের বাঁ হাতের আঙুল কেটে যায়।মামলায় ৬ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ১০-১২ জনকে আসামি করা হয়েছে। আসামিরা হলেন বালুচর এলাকার জুনেদ, আনাছ মিয়া, কুদরত আলী, কালা মামুন, শরীফ, হেলাল ও সবুজ।

শাহপরান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের জানান, সোমবার রাতে পাওয়া অভিযোগ মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে। মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

আরিফ হত্যার ঘটনাটি ঘটেছে বিমানবন্দর থানা এলাকায়। বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মঈন উদ্দিন জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আনহাছ আহমদ ওরফে রনি এবং মামুন মজুমদার নামের দুজনকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঘটনায় সম্পৃক্ত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নাজমুল ইসলাম বলেন, আটক রনি ও মামুন ওয়ার্ড কাউন্সিলর হিরণ মাহমুদের পক্ষে সক্রিয় ছিলেন। তাঁরা ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। এলাকায় তাঁরা বখাটে হিসেবে পরিচিত। তিনি বলেন, পূর্বপরিকল্পিতভাবেই আরিফ আহমেদকে খুন করা হয়েছে। তাঁর শরীরে ১৬-১৭টি কোপ ও ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন।

পুলিশ ও জেলা ছাত্রলীগের দাবি অনুযায়ী, আরিফ আহমেদ ও হিরণ মাহমুদের মধ্যে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব ছিল। সেই দ্বন্দ্বের জের ধরে তাকে হত্যা করা হয়েছে। তবে পুলিশ এখনো নিশ্চিতভাবে বলতে পারছে না যে, আরিফকে হিরণ মাহমুদের লোকজন খুন করেছে কি না।

ঘটনার পর থেকে কয়েক দফা চেষ্টা করেও মুঠোফোন বন্ধ থাকায় অভিযোগের বিষয়ে হিরণ মাহমুদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Post a Comment

0 Comments